ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাত পোহালেই বিসিসি নির্বাচন, ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে ইভিএম

রাত পোহালেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এর আগে শনিবার রাতে বরিশাল নগরীতে আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। শেষ দিনের প্রচারে আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ ভোট কিনতে কালো টাকা ছড়ানোর পাশাপাশি ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তবে সব প্রার্থীই ভোটারদের দলবেঁধে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন অপেক্ষা ভোটের।

সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলবে ভোট। এবার ভোট হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে। ভোটকক্ষে একটি ও কেন্দ্রের প্রবেশ পথে দুটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সে হিসেবে বরিশালের এই নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকছে ১ হাজার ১৪৬টি ক্যামেরা। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ইভিএম মেশিনসহ সরঞ্জামাদি।

রোববার (১১ জুন) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রিজাইডিং অফিসারকে ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪টি বুথের জন্য এক হাজার ৫০০ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন দেওয়া হয়।

রিটার্নিং অফিসার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিসিসি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষে ১২৬টি কেন্দ্রে ৮৯৫টি বুথের জন্য অতিরিক্ত দেড়গুণ ইভিএম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নগরীতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। বরিশাল পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬টি। যার মধ্যে ১০৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ থেকে ২৬ জন ও সাধারণ কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও জানান, নগরীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে শনিবার বিকাল থেকেই বরিশালে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য কাজ শুরু করেছে। বিজিবি ছাড়াও নগরীতে চার হাজার ৪০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিযুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দুই হাজার ৩০০ জন।

বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুম্পা সিকদার জানান, বিজিবির প্লাটুনগুলো শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম ও টিটিসিতে অবস্থান করছে। ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে বিজিবির ১৩টি দল স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে নগরীতে টহল দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন এবং নারী ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন।

নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ৩০টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১০টি পদের বিপরীতে ৪২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

ট্যাগ :

খুলনার দাকোপে ভূমিসেবা সপ্তাহ উদযাপন হয়েছে

রাত পোহালেই বিসিসি নির্বাচন, ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে ইভিএম

আপডেট সময় : ০৮:৩০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩

রাত পোহালেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এর আগে শনিবার রাতে বরিশাল নগরীতে আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। শেষ দিনের প্রচারে আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ ভোট কিনতে কালো টাকা ছড়ানোর পাশাপাশি ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তবে সব প্রার্থীই ভোটারদের দলবেঁধে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন অপেক্ষা ভোটের।

সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলবে ভোট। এবার ভোট হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে। ভোটকক্ষে একটি ও কেন্দ্রের প্রবেশ পথে দুটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সে হিসেবে বরিশালের এই নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকছে ১ হাজার ১৪৬টি ক্যামেরা। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ইভিএম মেশিনসহ সরঞ্জামাদি।

রোববার (১১ জুন) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রিজাইডিং অফিসারকে ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪টি বুথের জন্য এক হাজার ৫০০ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন দেওয়া হয়।

রিটার্নিং অফিসার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিসিসি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষে ১২৬টি কেন্দ্রে ৮৯৫টি বুথের জন্য অতিরিক্ত দেড়গুণ ইভিএম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নগরীতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। বরিশাল পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬টি। যার মধ্যে ১০৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ থেকে ২৬ জন ও সাধারণ কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও জানান, নগরীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে শনিবার বিকাল থেকেই বরিশালে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য কাজ শুরু করেছে। বিজিবি ছাড়াও নগরীতে চার হাজার ৪০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিযুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দুই হাজার ৩০০ জন।

বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুম্পা সিকদার জানান, বিজিবির প্লাটুনগুলো শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম ও টিটিসিতে অবস্থান করছে। ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে বিজিবির ১৩টি দল স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে নগরীতে টহল দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন এবং নারী ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন।

নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ৩০টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১০টি পদের বিপরীতে ৪২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।