ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাতে কেন এত লোডশেডিং

দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দিন ও রাতে গরমের অনুভূতি আলাদা করার উপায় নেই। গভীর রাত পর্যন্ত থাকছে গরমের তেজ। এতে মধ্যরাতের পরও বিদ্যুতের চাহিদা তেমন একটা কমছে না;

কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন রাত ১০টার পর থেকে কিছুটা কমতে থাকে। গত কয়েক দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে মধ্যরাতের পর। এই পরিস্থিতি সারা দেশে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বেশি।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা লাইজু বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাত ১২টায় ঘুমাতে গেলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এক ঘণ্টা পর আসে।

ঘুম কিছুটা গভীর হওয়ার আগে দুইটার দিকে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। চার দিন ধরে এমন চলছে। ঘুমাতে পারছে না কেউ। বাচ্চাদের সকালে স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে।

রাজধানীর এই বাসিন্দার চেয়েও লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা থাকা রাজশাহী, নীলফামারী, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিং ভোগান্তি তৈরি করেছে।

রাজশাহী নগরের বুধপাড়া এলাকার রহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে রাত ১২টার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। এ গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে কষ্ট বাড়ে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বলছে, রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে। রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াট।

স্বাভাবিক সময়ে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা কমতে থাকে; কিন্তু কয়েক দিন ধরে এটি তেমন একটা কমছে না। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো যাচ্ছে না, তাই লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

পিজিসিবির তথ্য বলছে, সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেশি করা হয়। ২ জুন সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় রাত ৯টায়, ১৪ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট।

এ সময় লোডশেডিং হয় মাত্র ৩৭৫ মেগাওয়াট। এরপর উৎপাদন কমতে থাকে আর লোডশেডিং বাড়তে থাকে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন হয় ১১ থেকে সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াট।

ওই দিন দিবাগত রাত একটায় ১ হাজার ৯৯২ এবং রাত তিনটায় ১ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এর আগের তিন দিনও মধ্যরাতের পর লোডশেডিং পরিস্থিতি প্রায় এমন ছিল। গতকাল শনিবারও দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ২৪৭ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা এখন ২৩ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গড়ে প্রতিদিন জ্বালানির অভাবে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না।

এ ছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আড়াই হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা বন্ধ রাখতে হয়। বাকি ১৬ হাজার মেগাওয়াট থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট।

দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় গত ১৯ এপ্রিল, ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। ওই সময় টানা কয়েক দিন ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু জ্বালানির অভাবে গত মাসে এটি কমতে থাকে।

গ্যাস ছাড়াও কয়লার অভাবে ভুগছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। ডলার–সংকটে পড়ে কয়লা আমদানি করতে না পারায় দুই দফায় বন্ধ হয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এখন তা চালু থাকলেও বন্ধ হওয়ার পথে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের পটুয়াখালীর পায়রা। এটি বন্ধ হলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে।

ট্যাগ :

দাকোপের বাজুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রাতে কেন এত লোডশেডিং

আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩

দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দিন ও রাতে গরমের অনুভূতি আলাদা করার উপায় নেই। গভীর রাত পর্যন্ত থাকছে গরমের তেজ। এতে মধ্যরাতের পরও বিদ্যুতের চাহিদা তেমন একটা কমছে না;

কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন রাত ১০টার পর থেকে কিছুটা কমতে থাকে। গত কয়েক দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে মধ্যরাতের পর। এই পরিস্থিতি সারা দেশে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বেশি।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা লাইজু বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাত ১২টায় ঘুমাতে গেলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এক ঘণ্টা পর আসে।

ঘুম কিছুটা গভীর হওয়ার আগে দুইটার দিকে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। চার দিন ধরে এমন চলছে। ঘুমাতে পারছে না কেউ। বাচ্চাদের সকালে স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে।

রাজধানীর এই বাসিন্দার চেয়েও লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা থাকা রাজশাহী, নীলফামারী, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিং ভোগান্তি তৈরি করেছে।

রাজশাহী নগরের বুধপাড়া এলাকার রহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে রাত ১২টার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। এ গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে কষ্ট বাড়ে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বলছে, রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে। রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াট।

স্বাভাবিক সময়ে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা কমতে থাকে; কিন্তু কয়েক দিন ধরে এটি তেমন একটা কমছে না। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো যাচ্ছে না, তাই লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

পিজিসিবির তথ্য বলছে, সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেশি করা হয়। ২ জুন সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় রাত ৯টায়, ১৪ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট।

এ সময় লোডশেডিং হয় মাত্র ৩৭৫ মেগাওয়াট। এরপর উৎপাদন কমতে থাকে আর লোডশেডিং বাড়তে থাকে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন হয় ১১ থেকে সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াট।

ওই দিন দিবাগত রাত একটায় ১ হাজার ৯৯২ এবং রাত তিনটায় ১ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এর আগের তিন দিনও মধ্যরাতের পর লোডশেডিং পরিস্থিতি প্রায় এমন ছিল। গতকাল শনিবারও দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ২৪৭ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা এখন ২৩ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গড়ে প্রতিদিন জ্বালানির অভাবে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না।

এ ছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আড়াই হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা বন্ধ রাখতে হয়। বাকি ১৬ হাজার মেগাওয়াট থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট।

দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় গত ১৯ এপ্রিল, ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। ওই সময় টানা কয়েক দিন ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু জ্বালানির অভাবে গত মাসে এটি কমতে থাকে।

গ্যাস ছাড়াও কয়লার অভাবে ভুগছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। ডলার–সংকটে পড়ে কয়লা আমদানি করতে না পারায় দুই দফায় বন্ধ হয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এখন তা চালু থাকলেও বন্ধ হওয়ার পথে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের পটুয়াখালীর পায়রা। এটি বন্ধ হলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে।