ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিসিসি নির্বাচন: মৃত্যুর পরও সবার মুখে হিরনের নাম

মৃত্যুর ৯ বছর পরও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে ভূলতে পারেনি বরিশালের মানুষ। আর তাই এই সিটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষ থেকে প্রার্থী পর্যন্ত সবার মুখে মুখে হিরণের নাম। অনেক প্রার্থী তো তার নির্বাচনী প্রচারণায় হিরনের গুনগান করছেন, নিজের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথাও তুলে ধরছেন।

সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে মাঝে দুই পরিষদে যেন কোনো মেয়র সিটি করপোরেশনের দায়িত্বভার গ্রহণই করেননি, এমনকি তারা এ শহরের উন্নয়নেও কোনো ভূমিকা রাখেনি। আর এ বিষয়টিকে বিশেষজ্ঞরা বেশ ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও নির্বাচন বিশ্লেষক মো. সোহেল রানা বলেন, সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতির মৌলিক যে স্টান্ডার্ড সেটিকে গ্রহণ করবার ক্ষেত্রে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।

মেজোরিটারিয়ান ডেমোক্রেসির প্রক্রিয়ায় একজন নির্বাচিত প্রার্থীকে ওঠতে হয় সকলের প্রতিনিধি হয়ে। আমাদের রাজনীতিকগণ যতদিন না এই ইতিবাচকতা ধারণ করতে শিখবেন ততদিন দেশের প্রকৃত মালিক জনগণের মুক্তি নেই। মেয়র হিরণের মধ্যে এই ইতিবাচকতা চর্চার মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল।

আধুনিক নগর সভ্যতায় যা যা প্রয়োজন সে-সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা ছিল বলেই মনে করি। ফলে সামর্থ্যের মধ্যে সকল নাগরিকের কল্যাণে সেসব সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আন্তরিক প্রচেষ্টা তার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। একজন মননশীল ও বাগ্মী মানুষ হিসেবে হিরণ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন দেশব্যাপি।

তিনি আরও বলেন, একটি মিউনিসিপলিটিতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ধরে নেওয়া হয়, জনপ্রতিনিধিগণ সে সিদ্ধান্তসমূহ সর্বোচ্চ দক্ষতায় গ্রহণ করবেন। সরকারও সেক্ষেত্রে স্থায়ীয় শাসককে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেবে, যোগান দেবে প্রয়োজনীয় অর্থের।

কেন্দ্রের উন্নয়ন মেকানিজম ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীবাহিনীর মধ্যে সেসব সিদ্ধান্তসমূহের প্রেক্ষিতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হতে হয় সাবলীল ও ত্বরিত। তাহলেই উন্নয়ন হয় টেকসই। পর্যাপ্ত বাজেট এবং কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে উন্নয়ন উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়নের আন্তরিক প্রচেষ্টা না থাকলে কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হয় না। মেয়র হিরনের ক্ষেত্রে তার নির্বাচনী এলাকার অনেকগুলি সেক্টরে বিভিন্ন উদ্যোগ, বাজেট এবং বাস্তবায়ের দক্ষতা ও আন্তরিকতার একটি সরল সমন্বয় ঘটেছি।

হিরন আজকের এই সময়েও এসব কারণে দলমত নির্বিশেষে সকলের নিকট রোল মডেল হিসেবে গৃহীত। তার একটি সাধারণ গ্রহণযেগ্যতাও রয়েছে। আর তাই বিসিসির নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই বারংবার উঠে আসে প্রয়াত এই মেয়রের নাম।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসন তাপস বাংলানিউজকে বলেন, হিরন ভাইকে দেখেই আমার রাজনীতিতে আসা। ব্যবসায়ীক ও পারিবারিক কারণে বন্ধুবর এই মানুষটির সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকেছি, তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি।

তিনি বেচে থাকলে আজ এই বরিশালকে অনন্য এক জায়গা পৌঁছে দিতেন। তার মৃত্যুর পর আর কেউ বরিশালকে এগিয়ে নিতে পারেনি, এমনকি তৈরি হয়নি কোনো নেতৃত্বও।

তাই নিজের মন থেকেই এই অতৃপ্ত বরিশালের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বিন্দ্বীতা করছি।

যদিও খোদ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) তার নির্বাচনী প্রচারণায় গত ১০ বছরে বরিশালের কোনো উন্নয়ন হয়নি সে বিষয়টিকে মুখ্য হিসেবে বলে যাচ্ছেন।

যার হিসেবটা স্পষ্ট করে তিনি বলছেন শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর বরিশালের উন্নয়ন হয়নি।

আর গেলো দুই পরিষদে বরিশালে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন যে হয়নি, এমনটিই শুধু নয়। মেয়রের সঙ্গে থাকা কাউন্সিলরদেরও তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে এ সময়টাতে।

বর্তমান পরিষদ থেকে তো ১০ জন কাউন্সিলর মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর কাছ থেকেই ঘোষণা দিয়ে দূরেই সরে গেছেন। এসকল কাউন্সিলরদের মধ্যে নগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান পুনরায় এবারের সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা ৫ বছর পিছিয়েছি শওকত হোসেন হিরনকে মেয়র না বানাতে পেরে, আর ৫ বছর পিছিয়েছি সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র বানিয়ে।

পুরো এ সময়টাতে নগরবাসী তাদের কাঙ্খিত উন্নয়ন চোখে দেখেনি। তবে এবার দল (আওয়ামী লীগ) যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে বরিশালের উন্নয়ন হবে এটা নিশ্চিত।

নগরের বর্ধিত এলাকা খ্যাত ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিটি নির্বাচেনর প্রার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, এখন সাধারণ মানুষ সবকিছু বোঝে। শওকত হোসেন হিরনের পর কেন কি কারণে, গত দুই মেয়রের আমলের এলাকার উন্নয়ন করতে পারিনি তা তারাও জানে।

বর্ধিত এলাকার উন্নয়নে একমাত্র শওকত হোসেন হিরন কাজ করে গেছেন, আর এখন আমরা আশাবাদি খোকন ভাই বিজয়ী হলে কাজ করবেন।

এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ভোটার ওবায়েদুর রহমান বলেন, টানা ৯ বছরের বেশি সময় ধরে বর্ধিত এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা অবহেলিত। শওকত হোসেন হিরন আমাদের রাস্তাঘাটগুলো করে দিয়ে গেছিলেন।

এরপর সংস্কারের অভাবে সেগুলোর বেশিরভাগ এখন জরাজীর্ন। এখনও সাঁকো পাড় হয়ে চলাচল করতে হয় ২৩-৩০ নম্বর ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দাদের। নেই সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কেউ বলবে না আমরা সিটির বাসিন্দা।

আর রসুলপুর কলোনির বাসিন্দা সবুজ বলেন, গেল ৯ বছরে ২২টি কলোনির মধ্যে শুধু পলাশপুরে কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে। বাকী কলোনির গুলোর একই অবস্থা, ফলে এখানকার মানুষের জীবনমান শওকত হোসেন হিরনের সময় যা ছিল, তাই আছে। তাই মানুষ এখনও হিরনেই আবদ্ধ রয়েছে।

এমনকি গেল ৯ বছরে হাতে গোনা কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের খোঁজও কেউ নেয়নি বলে জানিয়েছেন রসুলপুর কলোনির বাসিন্দ ও গুরুমা কবির সিকদার কবরী।

তিনি বলেন, আজও আমরা হিরনকে স্মরণ করি তার ভালোবাসার জন্য। সেই আমাদের এখানের কিছু উন্নয়ন করেছিলেন, তারপর আর কেউ খোঁজ রাখেনি। যে কষ্টে আছি তাতে আমরা সহ সবাই হিরণকে স্মরণ করে, তার জন্য দোআ করে।

ট্যাগ :

দাকোপের বাজুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

বিসিসি নির্বাচন: মৃত্যুর পরও সবার মুখে হিরনের নাম

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩

মৃত্যুর ৯ বছর পরও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে ভূলতে পারেনি বরিশালের মানুষ। আর তাই এই সিটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষ থেকে প্রার্থী পর্যন্ত সবার মুখে মুখে হিরণের নাম। অনেক প্রার্থী তো তার নির্বাচনী প্রচারণায় হিরনের গুনগান করছেন, নিজের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথাও তুলে ধরছেন।

সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে মাঝে দুই পরিষদে যেন কোনো মেয়র সিটি করপোরেশনের দায়িত্বভার গ্রহণই করেননি, এমনকি তারা এ শহরের উন্নয়নেও কোনো ভূমিকা রাখেনি। আর এ বিষয়টিকে বিশেষজ্ঞরা বেশ ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও নির্বাচন বিশ্লেষক মো. সোহেল রানা বলেন, সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতির মৌলিক যে স্টান্ডার্ড সেটিকে গ্রহণ করবার ক্ষেত্রে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।

মেজোরিটারিয়ান ডেমোক্রেসির প্রক্রিয়ায় একজন নির্বাচিত প্রার্থীকে ওঠতে হয় সকলের প্রতিনিধি হয়ে। আমাদের রাজনীতিকগণ যতদিন না এই ইতিবাচকতা ধারণ করতে শিখবেন ততদিন দেশের প্রকৃত মালিক জনগণের মুক্তি নেই। মেয়র হিরণের মধ্যে এই ইতিবাচকতা চর্চার মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল।

আধুনিক নগর সভ্যতায় যা যা প্রয়োজন সে-সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা ছিল বলেই মনে করি। ফলে সামর্থ্যের মধ্যে সকল নাগরিকের কল্যাণে সেসব সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আন্তরিক প্রচেষ্টা তার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। একজন মননশীল ও বাগ্মী মানুষ হিসেবে হিরণ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন দেশব্যাপি।

তিনি আরও বলেন, একটি মিউনিসিপলিটিতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ধরে নেওয়া হয়, জনপ্রতিনিধিগণ সে সিদ্ধান্তসমূহ সর্বোচ্চ দক্ষতায় গ্রহণ করবেন। সরকারও সেক্ষেত্রে স্থায়ীয় শাসককে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেবে, যোগান দেবে প্রয়োজনীয় অর্থের।

কেন্দ্রের উন্নয়ন মেকানিজম ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীবাহিনীর মধ্যে সেসব সিদ্ধান্তসমূহের প্রেক্ষিতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হতে হয় সাবলীল ও ত্বরিত। তাহলেই উন্নয়ন হয় টেকসই। পর্যাপ্ত বাজেট এবং কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে উন্নয়ন উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়নের আন্তরিক প্রচেষ্টা না থাকলে কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হয় না। মেয়র হিরনের ক্ষেত্রে তার নির্বাচনী এলাকার অনেকগুলি সেক্টরে বিভিন্ন উদ্যোগ, বাজেট এবং বাস্তবায়ের দক্ষতা ও আন্তরিকতার একটি সরল সমন্বয় ঘটেছি।

হিরন আজকের এই সময়েও এসব কারণে দলমত নির্বিশেষে সকলের নিকট রোল মডেল হিসেবে গৃহীত। তার একটি সাধারণ গ্রহণযেগ্যতাও রয়েছে। আর তাই বিসিসির নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই বারংবার উঠে আসে প্রয়াত এই মেয়রের নাম।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসন তাপস বাংলানিউজকে বলেন, হিরন ভাইকে দেখেই আমার রাজনীতিতে আসা। ব্যবসায়ীক ও পারিবারিক কারণে বন্ধুবর এই মানুষটির সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকেছি, তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি।

তিনি বেচে থাকলে আজ এই বরিশালকে অনন্য এক জায়গা পৌঁছে দিতেন। তার মৃত্যুর পর আর কেউ বরিশালকে এগিয়ে নিতে পারেনি, এমনকি তৈরি হয়নি কোনো নেতৃত্বও।

তাই নিজের মন থেকেই এই অতৃপ্ত বরিশালের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বিন্দ্বীতা করছি।

যদিও খোদ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) তার নির্বাচনী প্রচারণায় গত ১০ বছরে বরিশালের কোনো উন্নয়ন হয়নি সে বিষয়টিকে মুখ্য হিসেবে বলে যাচ্ছেন।

যার হিসেবটা স্পষ্ট করে তিনি বলছেন শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর বরিশালের উন্নয়ন হয়নি।

আর গেলো দুই পরিষদে বরিশালে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন যে হয়নি, এমনটিই শুধু নয়। মেয়রের সঙ্গে থাকা কাউন্সিলরদেরও তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে এ সময়টাতে।

বর্তমান পরিষদ থেকে তো ১০ জন কাউন্সিলর মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর কাছ থেকেই ঘোষণা দিয়ে দূরেই সরে গেছেন। এসকল কাউন্সিলরদের মধ্যে নগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান পুনরায় এবারের সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা ৫ বছর পিছিয়েছি শওকত হোসেন হিরনকে মেয়র না বানাতে পেরে, আর ৫ বছর পিছিয়েছি সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র বানিয়ে।

পুরো এ সময়টাতে নগরবাসী তাদের কাঙ্খিত উন্নয়ন চোখে দেখেনি। তবে এবার দল (আওয়ামী লীগ) যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে বরিশালের উন্নয়ন হবে এটা নিশ্চিত।

নগরের বর্ধিত এলাকা খ্যাত ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিটি নির্বাচেনর প্রার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, এখন সাধারণ মানুষ সবকিছু বোঝে। শওকত হোসেন হিরনের পর কেন কি কারণে, গত দুই মেয়রের আমলের এলাকার উন্নয়ন করতে পারিনি তা তারাও জানে।

বর্ধিত এলাকার উন্নয়নে একমাত্র শওকত হোসেন হিরন কাজ করে গেছেন, আর এখন আমরা আশাবাদি খোকন ভাই বিজয়ী হলে কাজ করবেন।

এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ভোটার ওবায়েদুর রহমান বলেন, টানা ৯ বছরের বেশি সময় ধরে বর্ধিত এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা অবহেলিত। শওকত হোসেন হিরন আমাদের রাস্তাঘাটগুলো করে দিয়ে গেছিলেন।

এরপর সংস্কারের অভাবে সেগুলোর বেশিরভাগ এখন জরাজীর্ন। এখনও সাঁকো পাড় হয়ে চলাচল করতে হয় ২৩-৩০ নম্বর ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দাদের। নেই সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কেউ বলবে না আমরা সিটির বাসিন্দা।

আর রসুলপুর কলোনির বাসিন্দা সবুজ বলেন, গেল ৯ বছরে ২২টি কলোনির মধ্যে শুধু পলাশপুরে কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে। বাকী কলোনির গুলোর একই অবস্থা, ফলে এখানকার মানুষের জীবনমান শওকত হোসেন হিরনের সময় যা ছিল, তাই আছে। তাই মানুষ এখনও হিরনেই আবদ্ধ রয়েছে।

এমনকি গেল ৯ বছরে হাতে গোনা কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের খোঁজও কেউ নেয়নি বলে জানিয়েছেন রসুলপুর কলোনির বাসিন্দ ও গুরুমা কবির সিকদার কবরী।

তিনি বলেন, আজও আমরা হিরনকে স্মরণ করি তার ভালোবাসার জন্য। সেই আমাদের এখানের কিছু উন্নয়ন করেছিলেন, তারপর আর কেউ খোঁজ রাখেনি। যে কষ্টে আছি তাতে আমরা সহ সবাই হিরণকে স্মরণ করে, তার জন্য দোআ করে।