ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিসিসি নির্বাচন,প্রচারণায় সরগরম বরিশাল

  • ডেস্ক রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩
  • ৪৯ খবরটি দেখা হয়েছে

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় হলো সিটি করপোরেশনের প্রবেশদ্বার। যে কেউ এখানে পা রাখলেই বুঝতে পারবেন চলছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। যতই নগরীর ভেতরের দিকে আসতে থাকবেন ততই চোখে পড়বে প্রচারণার বাহারি স্টাইল। প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর লিফলেটে সয়লাব পুরো নগরী।

মাইকে চলছে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা। শিল্পীদের কণ্ঠে বাজানো হচ্ছে গান। ট্রাকে ট্রাকে চলছে চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গনের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নারী ও পুরুষ শিল্পীদের গান ও নানা রকম কসরত।

গড়িয়ারপাড় থেকে কালিজিরা ব্রিজ, দপদপিয়া এমনকি নবগ্রামের বারুজ্জেরহাট পর্যন্ত ৫৮ বর্গকিলোমিটার সিটি এলাকার যেখানেই চোখ পড়ে, নির্বাচনী প্রচারণা আর উৎসবমুখর পরিবেশ নগরবাসীকে আকৃষ্ট করে।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচণ্ড রোদ ও গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে।

ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বৃদ্ধ-যুবক পর্যন্ত নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে নগরীর বাসাবাড়িতে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। এর সঙ্গে চলছে উঠানবৈঠক, মতবিনিময় সভা, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান ও নেতাকর্মীর নির্বাচনী তৎপরতার মূল্যায়ন সভা।

নগরীর রাস্তাঘাটে দলীয় প্রতীক নৌকা, লাঙ্গল, হাতপাখা হাতে কর্মী সমর্থকদের অহরহ মিছিল দেখা গেছে। এর রেশ পড়েছে পাড়া-মহল্লায়ও। ছোট ছোট শিশু-কিশোর দল বেঁধে নির্বাচনী প্রতীকসহ প্রার্থীদের পক্ষে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে। এ যেন এক আনন্দ উৎসব।

স্থানীয় বাসিন্দা, ভোটার, রাজনৈতিক দলের কর্মীর বাইরে প্রতি প্রার্থীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন নগরীর বাইরের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, রাজনৈতিক সহকর্মী ও বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা। এমনকী আশপাশের জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতাদের পদচারণায় মুখর নির্বাচনী এলাকা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেঁধে দেয়া নির্বাচনী আচরণবিধিও কোথাও কোথাও উপেক্ষিত হতে দেখা গেছে। যদিও এসব অস্বীকার করছেন প্রার্থীরা।

এখন পর্যন্ত ছোটখাটো হাতাহাতি ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নৌকার প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় নারী কর্মীদের প্রচারণা। নগরীর প্রতিটি বাড়িতে দল বেঁধে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটের জন্য হানা দেন তারা। তাদের টার্গেট নারী ভোট। মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে নারী প্রচারকর্মীরা যেমন তৎপর, পিছিয়ে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

ভোটের বাকি আর মাত্র ৩ দিন। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ব্যতীত অন্য কোনো প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেননি। তবে প্রচারণায় পিছিয়ে নেই কেউ।

এখানে দলীয়ভাবে বিএনপি এ নির্বাচন বয়কট করলেও দলীয় নেতা সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে কামরুল হাসান রূপন ঘড়ি মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও বিএনপি তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে তবুও তার সঙ্গে পিতার অনুসারী বিএনপির একটি অংশ প্রচারণায় রয়েছেন বলে দাবি তার।

বরিশাল সিটিতে এবার আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ নৌকা প্রতীকে, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙল প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম হাতপাখা প্রতীকে, জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু গোলাপ ফুল প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রূপন ঘড়ি প্রতীকে, আসাদুজ্জামান আসাদ হাতি প্রতীকে ও আলী হোসেন হরিণ প্রতীকে ভোটে লড়ছেন।

ট্যাগ :

খুলনার দাকোপে ভূমিসেবা সপ্তাহ উদযাপন হয়েছে

বিসিসি নির্বাচন,প্রচারণায় সরগরম বরিশাল

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় হলো সিটি করপোরেশনের প্রবেশদ্বার। যে কেউ এখানে পা রাখলেই বুঝতে পারবেন চলছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। যতই নগরীর ভেতরের দিকে আসতে থাকবেন ততই চোখে পড়বে প্রচারণার বাহারি স্টাইল। প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর লিফলেটে সয়লাব পুরো নগরী।

মাইকে চলছে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা। শিল্পীদের কণ্ঠে বাজানো হচ্ছে গান। ট্রাকে ট্রাকে চলছে চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গনের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নারী ও পুরুষ শিল্পীদের গান ও নানা রকম কসরত।

গড়িয়ারপাড় থেকে কালিজিরা ব্রিজ, দপদপিয়া এমনকি নবগ্রামের বারুজ্জেরহাট পর্যন্ত ৫৮ বর্গকিলোমিটার সিটি এলাকার যেখানেই চোখ পড়ে, নির্বাচনী প্রচারণা আর উৎসবমুখর পরিবেশ নগরবাসীকে আকৃষ্ট করে।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচণ্ড রোদ ও গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে।

ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বৃদ্ধ-যুবক পর্যন্ত নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে নগরীর বাসাবাড়িতে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। এর সঙ্গে চলছে উঠানবৈঠক, মতবিনিময় সভা, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান ও নেতাকর্মীর নির্বাচনী তৎপরতার মূল্যায়ন সভা।

নগরীর রাস্তাঘাটে দলীয় প্রতীক নৌকা, লাঙ্গল, হাতপাখা হাতে কর্মী সমর্থকদের অহরহ মিছিল দেখা গেছে। এর রেশ পড়েছে পাড়া-মহল্লায়ও। ছোট ছোট শিশু-কিশোর দল বেঁধে নির্বাচনী প্রতীকসহ প্রার্থীদের পক্ষে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে। এ যেন এক আনন্দ উৎসব।

স্থানীয় বাসিন্দা, ভোটার, রাজনৈতিক দলের কর্মীর বাইরে প্রতি প্রার্থীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন নগরীর বাইরের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, রাজনৈতিক সহকর্মী ও বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা। এমনকী আশপাশের জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতাদের পদচারণায় মুখর নির্বাচনী এলাকা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেঁধে দেয়া নির্বাচনী আচরণবিধিও কোথাও কোথাও উপেক্ষিত হতে দেখা গেছে। যদিও এসব অস্বীকার করছেন প্রার্থীরা।

এখন পর্যন্ত ছোটখাটো হাতাহাতি ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নৌকার প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় নারী কর্মীদের প্রচারণা। নগরীর প্রতিটি বাড়িতে দল বেঁধে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটের জন্য হানা দেন তারা। তাদের টার্গেট নারী ভোট। মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে নারী প্রচারকর্মীরা যেমন তৎপর, পিছিয়ে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

ভোটের বাকি আর মাত্র ৩ দিন। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ব্যতীত অন্য কোনো প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেননি। তবে প্রচারণায় পিছিয়ে নেই কেউ।

এখানে দলীয়ভাবে বিএনপি এ নির্বাচন বয়কট করলেও দলীয় নেতা সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে কামরুল হাসান রূপন ঘড়ি মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও বিএনপি তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে তবুও তার সঙ্গে পিতার অনুসারী বিএনপির একটি অংশ প্রচারণায় রয়েছেন বলে দাবি তার।

বরিশাল সিটিতে এবার আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ নৌকা প্রতীকে, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙল প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম হাতপাখা প্রতীকে, জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু গোলাপ ফুল প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রূপন ঘড়ি প্রতীকে, আসাদুজ্জামান আসাদ হাতি প্রতীকে ও আলী হোসেন হরিণ প্রতীকে ভোটে লড়ছেন।