ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানসিক রোগী তালতলীর ইমরান

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ৮৮ খবরটি দেখা হয়েছে

স্বাভাবিক অবস্থায় ভালোবাসতেন এক মেয়েকে। সেই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক বেশিদিন পর্যন্ত গড়ায়নি। হঠাৎ সম্পর্কে ভেঙে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ইমরান। তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করলেও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি। গত সাত বছর ধরে ছন্নছাড়া হয়ে আছে তার জীবন।

বলছিলাম বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আম খোলা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেনের (২৪) কথা।

এলাকাবাসী জানান, ইমরান লেখাপড়ায় ছিলেন খুবই মেধাবী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টও ভালো। ইমরান স্বাভাবিক অবস্থায় ভালোবেসে ছিলেন এক মেয়েকে। সেই সম্পর্ক কিছুদিন পরেই রূপ নেয় বিচ্ছেদে। একপর্যায়ে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ইমরান। নানা মানসিক চাপের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও চলে তার উপর।

২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পরেই হঠাৎ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে ইমরান। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অজ্ঞান হয়ে থাকতেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করালেও পুরোপুরিভাবে হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য। তারপর থেকেই ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরছেন ইমরান।

সরজমিনে ইমরানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন ইমরান। তবে বাড়িতে থাকেন না সবসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। মাঝে মাঝে ইসলামিক কথাবার্তা বলেন। খুবই অবহেলায় জীবন পার করছেন ইমরান। ইমরানের পরিবারে মা-বাবা আর তিন বোন মোট ৫ জনের সংসার। একটিমাত্র ছেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় পরিবারের ওপর নেম এসেছে অন্ধকার।

ইমরানের মা বিউটি বেগম বলেন, আমরা চট্টগ্রামে ছিলাম ছেলে বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো হঠাৎ শুনি ছেলে পাগল হয়ে গেছে। তাকে নিয়ে ডাক্তার কবিরাজ দেখালেও অবস্থা আরো অবনতির দিকে যায়। এখন সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। এইচএসসি পরীক্ষার পরই এই সমস্যা শুরু হয়। আমার ছেলে খুবই মেধাবী ছিল। তাকে উন্নত চিকিৎসা করালে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। কিন্তু আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায় তাই তার ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘একটিমাত্র ছেলের চিকিৎসার জন্য জমানো পুঁজি শেষ করেছি। এখন তাকে চিকিৎসা করাবার মত আমাদের আর কিছুই নেই। বিভিন্ন হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করানোর জন্য লাখ লাখ টাকা লেগেছিল। কিছুটা ভালো হয়েছিল, পরে আবার আগের মতই অস্বাভাবিক চলাফেরা করে। চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে টাকার অভাবে। সব সময় বাড়ির সামনেই ঘোরাঘুরি করে। মাঝে মাঝে আবার হারিয়ে যায় তাকে খুঁজে আনতে হয়।’

ইমরানের চাচা মো. শহিদ বলেন, ইমরান খুবই শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল। নিয়মিত লেখাপড়া করতো। হঠাৎ করে সে অস্বাভাবিক আচরণ করে, পরে জানতে পারি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। চিকিৎসা করালে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। ইমরানের ভালো চিকিৎসা করানোর জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।’

লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘এই বিদ্যালয়ে ইমরান লেখাপড়া করতো। সে লেখাপড়ায় খুব মেধাবী ছিল। হঠাৎ করেই সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় পাগল। তাকে উন্নত চিকিৎসা করালে সে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

ইমরানের এমন করুন গল্প শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সিফাত আনোয়ার তুমপা ইমরানের পরিবারকে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে তার প্রেক্ষিতে ইমরানকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা হবে।’

দাকোপের বাজুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানসিক রোগী তালতলীর ইমরান

আপডেট সময় : ০১:১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

স্বাভাবিক অবস্থায় ভালোবাসতেন এক মেয়েকে। সেই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক বেশিদিন পর্যন্ত গড়ায়নি। হঠাৎ সম্পর্কে ভেঙে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ইমরান। তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করলেও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি। গত সাত বছর ধরে ছন্নছাড়া হয়ে আছে তার জীবন।

বলছিলাম বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আম খোলা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেনের (২৪) কথা।

এলাকাবাসী জানান, ইমরান লেখাপড়ায় ছিলেন খুবই মেধাবী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টও ভালো। ইমরান স্বাভাবিক অবস্থায় ভালোবেসে ছিলেন এক মেয়েকে। সেই সম্পর্ক কিছুদিন পরেই রূপ নেয় বিচ্ছেদে। একপর্যায়ে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ইমরান। নানা মানসিক চাপের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও চলে তার উপর।

২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পরেই হঠাৎ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে ইমরান। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অজ্ঞান হয়ে থাকতেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করালেও পুরোপুরিভাবে হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য। তারপর থেকেই ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরছেন ইমরান।

সরজমিনে ইমরানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন ইমরান। তবে বাড়িতে থাকেন না সবসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। মাঝে মাঝে ইসলামিক কথাবার্তা বলেন। খুবই অবহেলায় জীবন পার করছেন ইমরান। ইমরানের পরিবারে মা-বাবা আর তিন বোন মোট ৫ জনের সংসার। একটিমাত্র ছেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় পরিবারের ওপর নেম এসেছে অন্ধকার।

ইমরানের মা বিউটি বেগম বলেন, আমরা চট্টগ্রামে ছিলাম ছেলে বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো হঠাৎ শুনি ছেলে পাগল হয়ে গেছে। তাকে নিয়ে ডাক্তার কবিরাজ দেখালেও অবস্থা আরো অবনতির দিকে যায়। এখন সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। এইচএসসি পরীক্ষার পরই এই সমস্যা শুরু হয়। আমার ছেলে খুবই মেধাবী ছিল। তাকে উন্নত চিকিৎসা করালে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। কিন্তু আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায় তাই তার ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘একটিমাত্র ছেলের চিকিৎসার জন্য জমানো পুঁজি শেষ করেছি। এখন তাকে চিকিৎসা করাবার মত আমাদের আর কিছুই নেই। বিভিন্ন হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করানোর জন্য লাখ লাখ টাকা লেগেছিল। কিছুটা ভালো হয়েছিল, পরে আবার আগের মতই অস্বাভাবিক চলাফেরা করে। চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে টাকার অভাবে। সব সময় বাড়ির সামনেই ঘোরাঘুরি করে। মাঝে মাঝে আবার হারিয়ে যায় তাকে খুঁজে আনতে হয়।’

ইমরানের চাচা মো. শহিদ বলেন, ইমরান খুবই শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল। নিয়মিত লেখাপড়া করতো। হঠাৎ করে সে অস্বাভাবিক আচরণ করে, পরে জানতে পারি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। চিকিৎসা করালে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। ইমরানের ভালো চিকিৎসা করানোর জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।’

লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘এই বিদ্যালয়ে ইমরান লেখাপড়া করতো। সে লেখাপড়ায় খুব মেধাবী ছিল। হঠাৎ করেই সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় পাগল। তাকে উন্নত চিকিৎসা করালে সে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

ইমরানের এমন করুন গল্প শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সিফাত আনোয়ার তুমপা ইমরানের পরিবারকে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে তার প্রেক্ষিতে ইমরানকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা হবে।’