ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৭

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১০:১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩
  • ৫৭ খবরটি দেখা হয়েছে

পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঈদ পালন করতে আসা লোকজন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই গ্রামের ইলিয়াস হোসেন (২৪) জানান, তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য ঈদের একদিন আগে বাড়িতে আসেন এবং ঈদের পরদিন তার ভীষণ জ্বর শুরু হয়। জ্বর না কমায় ৪ জুলাই তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

তিনি জানান, হাসপাতালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং এখানেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া গ্রামের মো. ইমরান (২৬) ঢাকার মিরপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঈদের পরদিন বাড়িতে এসে জ্বরে আক্রান্ত হন। ৫ জুলাই পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসলে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তখন থেকেই চিকিৎসাধীন তিনি।

তিনি জানান, বাড়িতে এসে হঠাৎ জোরে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। হাসপাতালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

বরগুনার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা গ্রামের রিপা বেগম (২১) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল ঘরামিও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ দিন ধরে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আক্রান্তদের মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রোগীর সংখ্যা বেশি।

আজ শুক্রবার সকালে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত ২২টি শয্যায় রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় আরও ৪ জন রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ডেঙ্গু ওয়ার্ডের নার্স জানান, এখানে ২২টি শয্যা রয়েছে। তবে গতকাল আরও ৪ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় তাদেরকে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, ঈদের আগে দু-একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতো। কিন্তু ঈদের পরপর রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ৯ জন নতুন রোগী এসেছে।

তিনি জানান, ঈদ পালন করার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লোকজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আসলে তাদের মাধ্যমে এখানে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের জন্য শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীতে মোট ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, বাউফল ও গলাচিপায় ২ জন করে এবং মির্জাগঞ্জে একজন।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. কবির হাসান জানান, ঈদের পরপরই জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, জানুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ১২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানের চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৭ জন।

ট্যাগ :

দাকোপের বাজুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

পটুয়াখালীতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৭

আপডেট সময় : ১০:১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩

পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঈদ পালন করতে আসা লোকজন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই গ্রামের ইলিয়াস হোসেন (২৪) জানান, তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য ঈদের একদিন আগে বাড়িতে আসেন এবং ঈদের পরদিন তার ভীষণ জ্বর শুরু হয়। জ্বর না কমায় ৪ জুলাই তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

তিনি জানান, হাসপাতালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং এখানেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া গ্রামের মো. ইমরান (২৬) ঢাকার মিরপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঈদের পরদিন বাড়িতে এসে জ্বরে আক্রান্ত হন। ৫ জুলাই পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসলে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তখন থেকেই চিকিৎসাধীন তিনি।

তিনি জানান, বাড়িতে এসে হঠাৎ জোরে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। হাসপাতালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

বরগুনার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা গ্রামের রিপা বেগম (২১) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল ঘরামিও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ দিন ধরে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আক্রান্তদের মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রোগীর সংখ্যা বেশি।

আজ শুক্রবার সকালে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত ২২টি শয্যায় রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় আরও ৪ জন রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ডেঙ্গু ওয়ার্ডের নার্স জানান, এখানে ২২টি শয্যা রয়েছে। তবে গতকাল আরও ৪ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় তাদেরকে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, ঈদের আগে দু-একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতো। কিন্তু ঈদের পরপর রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ৯ জন নতুন রোগী এসেছে।

তিনি জানান, ঈদ পালন করার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লোকজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আসলে তাদের মাধ্যমে এখানে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের জন্য শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীতে মোট ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, বাউফল ও গলাচিপায় ২ জন করে এবং মির্জাগঞ্জে একজন।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. কবির হাসান জানান, ঈদের পরপরই জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, জানুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ১২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানের চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৭ জন।