ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পঞ্চায়েত’র ওয়াকফ এস্টেটের একই জমি দুই পক্ষকে লিজ প্রদান

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩
  • ৯৬ খবরটি দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় কালাইয়ার মরহুম আব্দুল হক পঞ্চায়েত এর চর নিমদীর ওয়াকফ এস্টেটে ১১৩ একর জমি যার ইসি নং- ২১৭৯। উক্ত ওয়াকফ এস্টেটের অফিসিয়াল মোতাল্লি হয়ে বাউফল উপজেলার সদ্য প্রয়াত নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা একই অর্থবছরে দুই পক্ষের কাছে লিজ দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

২০২০ সাল থেকে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন মোতাল্লি হয়ে উক্ত চর নিমদীর জমি মরহুম আব্দুল পঞ্চায়েত এর ওয়ারিশদের মাঝে লিজ দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১- ২২ অর্থ বছরের লিজ গ্রহীতা আব্দুল হক পঞ্চায়েতের ওয়ারিশ মোসলেমুদ্দিন গং কে ১৬.০৩.২০২৩ সালে লিজ দিয়ে গিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত বাউফল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন।

লিজ প্রদানের পর উক্ত পূর্ববর্তী অপসারিত মোতাল্লিদের প্ররোচনায় নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন কোন নোটিশ ছাড়াই গত ৩০.৫.২৩ তারিখ আব্দুল হক পঞ্চায়েতের ওয়ারিশ মোসলেম উদ্দিন গং এর লিজ বাতিল করেন। এবিষয়ে মোসলেম উদ্দিন পঞ্চায়েতকে কোন প্রকার লিখিত বা মৌখিক কোন নোটিশ প্রদান করা হয় নাই। গত ৬.৬.২৩ তারিখ নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন সরকারি সফলে ভারতে গেলে ৮ তারিখ সেখানে তিনি স্টক করে মারা যান।

এসময়ে পূর্ববর্তী অপসারিত মোতাল্লিরা লিজ গ্রহণ ছাড়াই ভোলা থেকে কিছু লোক চর নিমদীতে এনে এসে অবৈধভাবে অস্থায়ী টোং ঘর নির্মাণ করে বসবাস সহ গায়ের জোরে জমি চাষাবাদ শুরু করে। তারা লাঠিয়াল বাহিনী মোতায়েন করেছেন যার কারণে লিজ গ্রহিতা মোসলেম উদ্দিন জমিতে যেতে পারছেন না।

কোন উপায় না দেখে লিজ গ্রহিতা বাউফল সহকারী জজ আদালতে বাদী হয়ে একটি ইনজাংশন মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৩৬/২৩।

এরই মধ্যে বাউফলের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বায়জেদুর রহমান, পূর্বে লিজ গ্রহীতা মোসলেম উদ্দিনকে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই এই ওয়াকফ স্টেটের অপসারিত মোতাল্লিদের ২৬.৬.২৩ তারিখ চরনিমদীর ১১৩ একর জমি লিজ প্রদান করেন। যেখানে চাষীদের কাছ থেকে প্রতি একরে নেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার টাকা করে কিন্তু সরকারি ইজারা প্রদান করেছেন কানি প্রতি ২৩ হাজার টাকা। যে খানে আড়াই একরে এক কানি। তাহলে প্রতি কানিতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা কোথায় গেল। কেন একরের হিসাব কানিতে রুপান্তরিত করা হলো।

এবিষয়ে পূর্বের লিজ গ্রহীতা মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে লিজ গ্রহন করেছি। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তা কি কারণে আমাকে কোন প্রকার নোটিষ প্রদান না করে অন্য পক্ষকে লিজ প্রদান করলো। আমি কোর্টে ইনজাংশন মামলা দায়ের করেছি। আমি এই জমি লিজ নিয়ে সময়মতো চাষাবাদ না করতে পারায় অনেক টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আমি এর সুবিচার চাই।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি টাকা আত্মসাতের প্রমান পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

দাকোপের বাজুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

পঞ্চায়েত’র ওয়াকফ এস্টেটের একই জমি দুই পক্ষকে লিজ প্রদান

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় কালাইয়ার মরহুম আব্দুল হক পঞ্চায়েত এর চর নিমদীর ওয়াকফ এস্টেটে ১১৩ একর জমি যার ইসি নং- ২১৭৯। উক্ত ওয়াকফ এস্টেটের অফিসিয়াল মোতাল্লি হয়ে বাউফল উপজেলার সদ্য প্রয়াত নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা একই অর্থবছরে দুই পক্ষের কাছে লিজ দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

২০২০ সাল থেকে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন মোতাল্লি হয়ে উক্ত চর নিমদীর জমি মরহুম আব্দুল পঞ্চায়েত এর ওয়ারিশদের মাঝে লিজ দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১- ২২ অর্থ বছরের লিজ গ্রহীতা আব্দুল হক পঞ্চায়েতের ওয়ারিশ মোসলেমুদ্দিন গং কে ১৬.০৩.২০২৩ সালে লিজ দিয়ে গিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত বাউফল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন।

লিজ প্রদানের পর উক্ত পূর্ববর্তী অপসারিত মোতাল্লিদের প্ররোচনায় নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন কোন নোটিশ ছাড়াই গত ৩০.৫.২৩ তারিখ আব্দুল হক পঞ্চায়েতের ওয়ারিশ মোসলেম উদ্দিন গং এর লিজ বাতিল করেন। এবিষয়ে মোসলেম উদ্দিন পঞ্চায়েতকে কোন প্রকার লিখিত বা মৌখিক কোন নোটিশ প্রদান করা হয় নাই। গত ৬.৬.২৩ তারিখ নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন সরকারি সফলে ভারতে গেলে ৮ তারিখ সেখানে তিনি স্টক করে মারা যান।

এসময়ে পূর্ববর্তী অপসারিত মোতাল্লিরা লিজ গ্রহণ ছাড়াই ভোলা থেকে কিছু লোক চর নিমদীতে এনে এসে অবৈধভাবে অস্থায়ী টোং ঘর নির্মাণ করে বসবাস সহ গায়ের জোরে জমি চাষাবাদ শুরু করে। তারা লাঠিয়াল বাহিনী মোতায়েন করেছেন যার কারণে লিজ গ্রহিতা মোসলেম উদ্দিন জমিতে যেতে পারছেন না।

কোন উপায় না দেখে লিজ গ্রহিতা বাউফল সহকারী জজ আদালতে বাদী হয়ে একটি ইনজাংশন মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৩৬/২৩।

এরই মধ্যে বাউফলের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বায়জেদুর রহমান, পূর্বে লিজ গ্রহীতা মোসলেম উদ্দিনকে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই এই ওয়াকফ স্টেটের অপসারিত মোতাল্লিদের ২৬.৬.২৩ তারিখ চরনিমদীর ১১৩ একর জমি লিজ প্রদান করেন। যেখানে চাষীদের কাছ থেকে প্রতি একরে নেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার টাকা করে কিন্তু সরকারি ইজারা প্রদান করেছেন কানি প্রতি ২৩ হাজার টাকা। যে খানে আড়াই একরে এক কানি। তাহলে প্রতি কানিতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা কোথায় গেল। কেন একরের হিসাব কানিতে রুপান্তরিত করা হলো।

এবিষয়ে পূর্বের লিজ গ্রহীতা মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে লিজ গ্রহন করেছি। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তা কি কারণে আমাকে কোন প্রকার নোটিষ প্রদান না করে অন্য পক্ষকে লিজ প্রদান করলো। আমি কোর্টে ইনজাংশন মামলা দায়ের করেছি। আমি এই জমি লিজ নিয়ে সময়মতো চাষাবাদ না করতে পারায় অনেক টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আমি এর সুবিচার চাই।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি টাকা আত্মসাতের প্রমান পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।