ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গ্রীস্মকালীন তরমুজ চাষে দশমিনায় কৃষক লাভবান

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩
  • ৫৫ খবরটি দেখা হয়েছে

পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অসময়ে তরমুজ উৎপাদনে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন উপকূলের কৃষক আব্দুর রহমান। সাধারণ পদ্ধতিতে বছরে একবার ফলন হলেও পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতি বছরজুড়েই চাষ করা যায় রসালো ফল তরমুজ। অসময়ে চাষ হওয়ায় অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক আর বাজারে চাহিদাও বেশি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে কৃষকের। ফলে দিন দিন মালচিং পদ্ধতিতে তরমুচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে উপকূলীয় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কৃষকদের।
চলতি মৌসুমে দশমিনা উপজেলায় ৩একর জমিতে লাল রঙের গ্রীস্মকালীন তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি একক জমিতে ৩থেকে ৪টন ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ের চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি তরমুজচাষিরা। মালচিং মেথড’ ভারত ও ইসরাইলে খুবই জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে তরমুজের বীজ সরাসরি জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু মালচিং মেথড অনুযায়ী মালচিং পেপারে মুড়িয়ে অঙ্কুরিত বীজ জমিতে রোপন করা হয়।
এ পদ্ধতিতে প্রথমে মালচিং পলিথিন দিয়ে একটি বীজতলা নির্মাণ করা হয়। এর পর তরমুজের বীজ সেখানে স্থাপন করা হয়। এবার মালচিং পেপার ছিদ্র করে বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর, তা মাচায় প্রতিস্থাপন করা হয়।
যেহেতু বীজগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকে, তাই কোনও কীট-পতঙ্গ আক্রমণ করতে পারে না। ফলে কীটনাশক ব্যবহারেরও প্রয়োজন হয় না। একই কারণে ক্ষতিকর সূর্যালোকও এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।
সাধারণ পদ্ধতিতে অনেক সময় বৃষ্টি হলে বীজতলা বা ক্ষেত থেকে সার ধুয়ে যায়। মালচিং পেপার দিয়ে মোড়ানো থাকায় এখানে সেই সম্ভাবনাও নেই। সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে নতুন এই পদ্ধতিতে গাছগুলো দেড়গুণ তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে বলে জানা যায়। এ মৌসুমে দশমিনা সদরের কাটাখালী গ্রামে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।
তরমুজ চাষি মো. আব্দুর রহমান বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে প্রায় ৩একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজেল ফল আসা পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩লাখ টাকা। গত তিন চার দিন আগে ১৮শ’ কেজি তরমুজ ঢাকায় নিয়ে প্রতি কেজি ৩৭টাকা দরে ৬৫হাজার বিক্রি করা হয়। আমার এবছর অর্ধলাখ টাকা লাভ হবে তরমুজ বিক্রিতে। আগামীতে শুধু বীচি কিনলেই হবে তাতে আমার লাভ বেশি হবে। তিনি আরো জানান, তার দেখাদেখি এলাকার লোকজন এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ লাভজনক ও ভালো ফলন পাওয়া যায় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আহমেদ জানান, গ্রীষ্মকাল হওয়ায় বাজারে এ সময়ে তরমুজ পাওয়া যায় না। অসময়ে তরমুজ চাষ হওয়ায় ভালো দাম পাবেন। পতিত জমিতে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অসময়ে তরমুজ উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু হওয়ায় কৃষকরা চাইলে ঢাকাতেও তরমুজ পাঠাতে পারবেন। এতে তারা আরও বেশি দাম পাবেন।

ট্যাগ :

দাকোপের বাজুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

গ্রীস্মকালীন তরমুজ চাষে দশমিনায় কৃষক লাভবান

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩

পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অসময়ে তরমুজ উৎপাদনে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন উপকূলের কৃষক আব্দুর রহমান। সাধারণ পদ্ধতিতে বছরে একবার ফলন হলেও পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতি বছরজুড়েই চাষ করা যায় রসালো ফল তরমুজ। অসময়ে চাষ হওয়ায় অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক আর বাজারে চাহিদাও বেশি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে কৃষকের। ফলে দিন দিন মালচিং পদ্ধতিতে তরমুচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে উপকূলীয় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কৃষকদের।
চলতি মৌসুমে দশমিনা উপজেলায় ৩একর জমিতে লাল রঙের গ্রীস্মকালীন তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি একক জমিতে ৩থেকে ৪টন ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ের চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি তরমুজচাষিরা। মালচিং মেথড’ ভারত ও ইসরাইলে খুবই জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে তরমুজের বীজ সরাসরি জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু মালচিং মেথড অনুযায়ী মালচিং পেপারে মুড়িয়ে অঙ্কুরিত বীজ জমিতে রোপন করা হয়।
এ পদ্ধতিতে প্রথমে মালচিং পলিথিন দিয়ে একটি বীজতলা নির্মাণ করা হয়। এর পর তরমুজের বীজ সেখানে স্থাপন করা হয়। এবার মালচিং পেপার ছিদ্র করে বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর, তা মাচায় প্রতিস্থাপন করা হয়।
যেহেতু বীজগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকে, তাই কোনও কীট-পতঙ্গ আক্রমণ করতে পারে না। ফলে কীটনাশক ব্যবহারেরও প্রয়োজন হয় না। একই কারণে ক্ষতিকর সূর্যালোকও এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।
সাধারণ পদ্ধতিতে অনেক সময় বৃষ্টি হলে বীজতলা বা ক্ষেত থেকে সার ধুয়ে যায়। মালচিং পেপার দিয়ে মোড়ানো থাকায় এখানে সেই সম্ভাবনাও নেই। সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে নতুন এই পদ্ধতিতে গাছগুলো দেড়গুণ তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে বলে জানা যায়। এ মৌসুমে দশমিনা সদরের কাটাখালী গ্রামে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।
তরমুজ চাষি মো. আব্দুর রহমান বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে প্রায় ৩একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজেল ফল আসা পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩লাখ টাকা। গত তিন চার দিন আগে ১৮শ’ কেজি তরমুজ ঢাকায় নিয়ে প্রতি কেজি ৩৭টাকা দরে ৬৫হাজার বিক্রি করা হয়। আমার এবছর অর্ধলাখ টাকা লাভ হবে তরমুজ বিক্রিতে। আগামীতে শুধু বীচি কিনলেই হবে তাতে আমার লাভ বেশি হবে। তিনি আরো জানান, তার দেখাদেখি এলাকার লোকজন এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ লাভজনক ও ভালো ফলন পাওয়া যায় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আহমেদ জানান, গ্রীষ্মকাল হওয়ায় বাজারে এ সময়ে তরমুজ পাওয়া যায় না। অসময়ে তরমুজ চাষ হওয়ায় ভালো দাম পাবেন। পতিত জমিতে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অসময়ে তরমুজ উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু হওয়ায় কৃষকরা চাইলে ঢাকাতেও তরমুজ পাঠাতে পারবেন। এতে তারা আরও বেশি দাম পাবেন।