ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কমিশনিং লাভ করল ত্রিমাত্রিক নৌ-ঘাঁটি বানৌজা শের-ই-বাংলা

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩
  • ৬৫ খবরটি দেখা হয়েছে

একটি আধুনিক শক্তিশালী ও সক্ষম বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গড়ে তুলতে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমান যে আধুনিক ক্রিমাত্রিক নৌ-বাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন বানেীজা শের-ই-বাংলা ঘাঁটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তা পূর্ন হল।

বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের দুর্ঘম এলাকায় এ ঘাঁটি স্থাপনে সমুদ্রসীমানার নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সার্ববৌমত্ব ও দেশের চলমার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ত্রিমাত্রিক শক্তির আধুনিক নৌ-ঘাঁটি বানৌজা শের-ই-বাংলা’র কমিশনিং প্রদান কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা সাড়ে বারোটায় গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ ঘাঁটির কমিশনিং প্রদান করেন।

এসময় বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল ঘাঁটির প্রধান কমোডর এম মহব্বত আলী’র হাতে কমিশনিং পতাকা তুলে দেন। একই সময়ে খুলনা শীপইয়ার্ড লিমিটেড নির্মিত পেট্রোল ক্রাফট স্কোয়াড্রোন শহীদ দৌলত, শহীদ ফরিদ, শহীদ মহিব্বুল্লাহ, শহীদ আখতার উদ্দিন এবং ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি (এলসিইউ) বানৌজা ডলফিন, তিমি, টুনা ও পেংগুইন এরও কমিশনিং প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বানৌজা শের-ই-বাংলা ঘাঁটিতে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হলে নৌ-বাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল তাকে স্বাগত জানান। এসময় বানৌজা শের-ই-বাংলা’র একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সংসদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তযোদ্ধা নৌ-কমান্ডোগন, সামরিক-বেসমুরক কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলায় প্রধানমন্ত্রীর অসামামন্য অবদানের কথা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নৌ-বাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে নৌবাহিনীকে স্মার্ট, আধুনিক, শক্তিশালী গড়ার অংশ বানৌজা শেরে-ই-বাংলা ঘাঁটি। দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরন, চোরাচালান দমন, মানবপাচার, চোরাচাল, মাদকচোরাচালান রোধসহ জনকল্যানমূলক কাজে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ফোর্সেস গোল-২০৩০ উন্নয়ন রূপকল্পসহ বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা প্রদান, সমুদ্রবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিমান সহায়তা, বহি:শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে বিএনএস শের-ই-বাংলা’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে ৫শ’ একর জমি অধিগ্রহন করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সবচেয়ে বড় এ নৌ-ঘাঁটি। এরমধ্যে ২শ’ একর জমি নৌ-ঘাঁটির এবং ৩শ’ একর জমি নৌ-বিমান ও সাবমেরিন অপারেশনের জন্য বরাদ্ধ রেখে উন্নয়ন কাজ চলছে।

২০১৮ সালের ২ জানুয়ারী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী সভায় ১ হাজার ৮১.৫০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন চিফ সেকশন তত্ত্বাবধান করছে। ইেিতামধ্যে এ ঘাঁটিতে র্নিমান করা হয়েছে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক ভবন, এভিয়েশন সাপোর্ট ও হ্যাঙ্গার সুবিধা সম্বলিত মাল্টিপারপাস শেড, রিপেয়ার ও মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ, এভিয়েশন সুবিধা, ডাইভিং স্যালভেজ এর কমান্ডো পরিচালনা সম্বলিত ইউনিট, নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ ও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল।

২০২১ সালের জুনে নৌ-ঘাঁটির উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় এখনো উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

ট্যাগ :

দাকোপের বাজুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

কমিশনিং লাভ করল ত্রিমাত্রিক নৌ-ঘাঁটি বানৌজা শের-ই-বাংলা

আপডেট সময় : ১১:২৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩

একটি আধুনিক শক্তিশালী ও সক্ষম বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গড়ে তুলতে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমান যে আধুনিক ক্রিমাত্রিক নৌ-বাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন বানেীজা শের-ই-বাংলা ঘাঁটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তা পূর্ন হল।

বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের দুর্ঘম এলাকায় এ ঘাঁটি স্থাপনে সমুদ্রসীমানার নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সার্ববৌমত্ব ও দেশের চলমার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ত্রিমাত্রিক শক্তির আধুনিক নৌ-ঘাঁটি বানৌজা শের-ই-বাংলা’র কমিশনিং প্রদান কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা সাড়ে বারোটায় গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ ঘাঁটির কমিশনিং প্রদান করেন।

এসময় বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল ঘাঁটির প্রধান কমোডর এম মহব্বত আলী’র হাতে কমিশনিং পতাকা তুলে দেন। একই সময়ে খুলনা শীপইয়ার্ড লিমিটেড নির্মিত পেট্রোল ক্রাফট স্কোয়াড্রোন শহীদ দৌলত, শহীদ ফরিদ, শহীদ মহিব্বুল্লাহ, শহীদ আখতার উদ্দিন এবং ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি (এলসিইউ) বানৌজা ডলফিন, তিমি, টুনা ও পেংগুইন এরও কমিশনিং প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বানৌজা শের-ই-বাংলা ঘাঁটিতে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হলে নৌ-বাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল তাকে স্বাগত জানান। এসময় বানৌজা শের-ই-বাংলা’র একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সংসদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তযোদ্ধা নৌ-কমান্ডোগন, সামরিক-বেসমুরক কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলায় প্রধানমন্ত্রীর অসামামন্য অবদানের কথা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নৌ-বাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে নৌবাহিনীকে স্মার্ট, আধুনিক, শক্তিশালী গড়ার অংশ বানৌজা শেরে-ই-বাংলা ঘাঁটি। দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরন, চোরাচালান দমন, মানবপাচার, চোরাচাল, মাদকচোরাচালান রোধসহ জনকল্যানমূলক কাজে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ফোর্সেস গোল-২০৩০ উন্নয়ন রূপকল্পসহ বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা প্রদান, সমুদ্রবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিমান সহায়তা, বহি:শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে বিএনএস শের-ই-বাংলা’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে ৫শ’ একর জমি অধিগ্রহন করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সবচেয়ে বড় এ নৌ-ঘাঁটি। এরমধ্যে ২শ’ একর জমি নৌ-ঘাঁটির এবং ৩শ’ একর জমি নৌ-বিমান ও সাবমেরিন অপারেশনের জন্য বরাদ্ধ রেখে উন্নয়ন কাজ চলছে।

২০১৮ সালের ২ জানুয়ারী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী সভায় ১ হাজার ৮১.৫০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন চিফ সেকশন তত্ত্বাবধান করছে। ইেিতামধ্যে এ ঘাঁটিতে র্নিমান করা হয়েছে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক ভবন, এভিয়েশন সাপোর্ট ও হ্যাঙ্গার সুবিধা সম্বলিত মাল্টিপারপাস শেড, রিপেয়ার ও মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ, এভিয়েশন সুবিধা, ডাইভিং স্যালভেজ এর কমান্ডো পরিচালনা সম্বলিত ইউনিট, নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ ও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল।

২০২১ সালের জুনে নৌ-ঘাঁটির উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় এখনো উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।